পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সেরা ৭টি ইসলামিক বই যা প্রতিটি মুমিনের সংগ্রহে রাখা প্রয়োজন (সরাসরি কেনার লিঙ্কসহ)

ছবি
আসসালামু আলাইকুম। একজন মুমিনের জীবনের প্রকৃত সম্পদ হলো জ্ঞান। আর এই জ্ঞান অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো ভালো ইসলামিক বই। আজকের পোস্টে আমরা এমন ৭টি সেরা বই নিয়ে আলোচনা করব যা আপনার সংগ্রহে রাখা প্রয়োজন। ১. আর-রাহীকুল মাখতূম (The Sealed Nectar) রাসূল (সা.)-এর জীবনী বা সীরাত নিয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় এই বইটি লেখা হয়েছে। দারাজ থেকে অর্ডার করুন ২. তাফসীরে ইবনে কাসীর (সংক্ষিপ্ত) কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা জানার জন্য এই তাফসীরটি বিশ্বব্যাপী নির্ভরযোগ্য। যারা গভীর অর্থসহ কুরআন বুঝতে চান তাদের জন্য এটি অপরিহার্য। দারাজ থেকে অর্ডার করুন ৩. রিয়াদুস সালেহীন প্রতিদিনের আমল ও ইখলাসের ওপর নির্ভরযোগ্য হাদিসের একটি চমৎকার সংকলন। এটি প্রতিটি মুসলিম পরিবারের সংগ্রহে থাকা উচিত। দারাজ থেকে অর্ডার করুন ৪. মুমিন জীবনের পাথেয় জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ইসলামি বিধান ও গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা নিয়ে সমৃদ্ধ একটি বই। দারাজ থেকে অর্ডার করুন ৫. আদর্শ মুসলিম পরিবার ইসলামিক পরিবার কিভাবে সুখী ও শান্তিময় করা যায়, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরামর্শ ও সঠিক তথ্য...

হালাল উপায়ে অনলাইন ইনকাম: ইসলামিক দৃষ্টিকোণ ও সেরা কিছু মাধ্যম

ছবি
  হালাল উপায়ে অনলাইন ইনকাম: ইসলামিক দৃষ্টিকোণ ও সেরা কিছু মাধ্যম ভূমিকা ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের ওপর হালাল রিজিক অন্বেষণ করা ফরজ করেছেন। বর্তমান যুগে প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করার অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একজন মুমিন হিসেবে আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, আমাদের উপার্জনের পথটি যেন শরীয়তসম্মত হয়। অনলাইন ইনকাম কি আসলে হালাল? অনলাইনে ইনকাম করা বা না করা নির্ভর করে আপনি কী ধরণের কাজ করছেন তার ওপর। যদি কাজের ধরণ বৈধ হয় এবং সেখানে কোনো ধোঁকাবাজি, সুদ বা হারাম কোনো বিষয় না থাকে, তবে সেই আয় অবশ্যই হালাল। হালাল উপায়ে অনলাইন ইনকামের সেরা ৩টি মাধ্যম ১. ব্লগিং ও কন্টেন্ট রাইটিং: আপনি যদি কোনো বিষয়ে দক্ষ হন, তবে সেই বিষয়ে লিখে অন্যদের সাহায্য করতে পারেন। আপনার ব্লগে যখন মানুষ আসবে, তখন সেখানে বৈধ বিজ্ঞাপন (যেমন: Google AdSense) দেখিয়ে আয় করা সম্ভব। ২. অনলাইন টিউটোরিং: আপনার যদি কুরআন শিক্ষা, ভাষা বা অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে জ্ঞান থাকে, তবে আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের ছাত্রদের শিখিয়ে সম্মানি গ্রহণ করতে পারেন। ৩. ফ্রিল্যান্স...

দুনিয়ার খরচ তো অনেক হলো, আখেরাতের পাথেয় কতটুকু জমালেন?

ছবি
  দুনিয়ার খরচ তো অনেক হলো , আখেরাতের পাথেয় কতটুকু জমালেন? ভূমিকা: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, আমরা প্রতিদিন আমাদের প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় কত কাজে টাকা ব্যয় করি। ফোনের এমবি কেনা, বাইরের নাস্তা বা শখের কোনো জিনিস কিনতে আমরা দ্বিধা করি না। কিন্তু যখনই দ্বীনের কোনো কাজে বা সদকা করার সুযোগ আসে, তখন শয়তান আমাদের মনে অভাবের ভয় ঢুকিয়ে দেয়। বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন: একবার ভেবে দেখুন, আজ যদি আপনার ডাক আসে আর আপনাকে এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয় , তবে আপনার সাথে থাকা এই ব্যাংক ব্যালেন্স বা দামি জিনিসগুলো কি কবরে যাবে? যাবে না। আপনার সাথে যাবে শুধু আপনার করা নেক আমল এবং সেই দান যা আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছিলেন। আখেরাতের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ : আমাদের জীবন খুব ছোট। এই ছোট জীবনে আমরা যদি এমন কিছু করে যেতে পারি যা আমাদের মৃত্যুর পরেও সওয়াব দিতে থাকবে, তবে সেটিই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার সামান্য এই ত্যাগ কিয়ামতের দিন আপনার জন্য নাজাতের অসিলা হতে পারে। নসিহত: আসুন, আজ থেকেই আমরা আমাদের উপার্জনের একটি ক্ষুদ্র অংশ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার অভ্যাস করি। শয়...

সদকায়ে জারিয়া: মৃত্যুর পরও আপনার কবরে সওয়াব পৌঁছাবে যেভাবে!

ছবি
সদকায়ে জারিয়া : মৃত্যুর পরও আপনার কবরে সওয়াব পৌঁছাবে যেভাবে! ভূমিকা : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। দুনিয়ার এই জীবন ক্ষণস্থায়ী , আজ আছি কাল নেই। আমরা প্রতিদিন কত অর্থ দুনিয়ার আরাম-আয়েশে ব্যয় করি, কিন্তু কবরের সেই অন্ধকার ঘরে আমাদের সাথে কোনো সম্পদ যাবে না।  তবে কি সব আমল বন্ধ হয়ে যাবে? না, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন এমন কিছু আমলের কথা, যা মৃত্যুর পরেও সওয়াব হিসেবে আমাদের আমলনামায় যোগ হতে থাকে। একেই বলা হয় সদকায়ে জারিয়া। সদকায়ে জারিয়া কী? সদকায়ে জারিয়া হলো এমন একটি নেক কাজ, যার উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয় । যেমন—একটি মসজিদ নির্মাণ করা, দ্বীনি শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া বা এমন কোনো প্রজেক্টে সাহায্য করা যা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত ।   নবীজি (সা.) বলেছেন, দান করলে সম্পদ কমে না, বরং তা কিয়ামতের দিন দাতার জন্য ছায়া হবে। আপনার সামান্য দান হতে পারে আপনার অসিলা আমরা অপ্রয়োজনীয় কাজে অনেক টাকা ব্যয় করি, কিন্তু দ্বীনের প্রচারে বা অসহায়ের সাহায্যে খরচ করার সময় শয়তান আমাদের মনে দারিদ্র্যের ভয় দেখায়।  বিবেক দিয়ে ভেবে দেখুন, আপনার সামান্য কিছু অর্থ যদি একটি দ্বীনি ওয়েবসাইট ব...

শয়তানের সূক্ষ্ম ফাঁদ থেকে সাবধান: আপনিও কি ধোঁকায় পড়ছেন?

ছবি
  শয়তানের সূক্ষ্ম ফাঁদ থেকে সাবধান:  নেক আমল কি আপনিও পিছিয়ে দিচ্ছেন? ভূমিকা: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোন, আমরা প্রতিনিয়ত দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহে পড়ে আখেরাতের আসল পাথেয় গড়তে ভুলে যাচ্ছি। অনেক সময় আমাদের মনে নেক কাজের ইচ্ছা জাগে, কিন্তু পরক্ষণেই এক অদ্ভুত আলস্য আমাদের ঘিরে ধরে। আপনি কি জানেন, এটিই হলো শয়তানের সবচেয়ে বড় এবং সূক্ষ্ম ফাঁদ? শয়তানের সেই সূক্ষ্ম চাল: "পরে করব" যখনই আপনার মন দান-খয়রাত বা নামাজের জন্য উৎসাহিত হয় , তখনই শয়তান আপনাকে ধোঁকা দিতে শুরু করে। আপনার মাথায় সে একটিই চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়— "এখনই কেন? পরে করলেও তো হয় ।" মনে রাখবেন, এই "পরে করব" কথাটিই হলো শয়তানের কাজ, যার মাধ্যমে সে আপনাকে নেক আমল থেকে সরিয়ে দেয় । তাই যখনই ভালো কাজের সুযোগ আসবে, কোনো গ্যাপ না রেখে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিন। পরকালের পাথেয় গড়ার সময় এখনই বিবেক দিয়ে একবার ভেবে দেখুন, দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় কাজে আমরা কত অর্থ ও সময় ব্যয় করছি। কিয়ামতের দিন এই খরচগুলো কি আমাদের কোনো উপকারে আসবে? নবীজি (সা.) বলেছেন, দান সম্পদ কমায় না বরং কিয়ামতের দিন এটি মানুষ...

আল-কুরআন অডিও লাইব্রেরি

ছবি
আল-কুরআন অডিও লাইব্রেরি আরবি তিলাওয়াত ও বাংলা অনুবাদসহ সূরা নির্বাচন করুন: --- সূরা বাছাই করুন --- ১. সূরা আল-ফাতিহা ২. সূরা আল-বাকারাহ ৩. সূরা আল-ইমরান ৪. সূরা আন-নিসা ৫. সূরা আল-মায়েদাহ ৬. সূরা আল-আন'আম ৭. সূরা আল-আ'রাফ ৮. সূরা আল-আনফাল ৯. সূরা আত-তাওবাহ ১০. সূরা ইউনুস আপনার ব্রাউজারটি অডিও সাপোর্ট করে না। তথ্যসূত্র: কুরআন অডিও (অনুবাদসহ) আল-কুরআন অডিও লাইব্রেরি আরবি তিলাওয়াত ও আয়াতের বাংলা অনুবাদসহ সূরা নির্বাচন করুন: --- এখানে ক্লিক করুন --- ১. সূরা আল-ফাতিহা ২. সূরা আল-বাকারাহ ৩. সূরা আল-ইমরান ৪. সূরা আন-নিসা ৫. সূরা আল-মায়েদাহ ৬. সূরা আল-আন'আম ৭. সূরা আল-আ'রাফ ৮. সূরা আল-আনফাল ৯. সূরা আত-তাওবাহ ১০. সূরা ইউনুস ১১. সূরা হুদ ১২. সূরা ইউসুফ ১৩. সূরা আর-রা'দ ...

৪০টি মহামূল্যবান হাদিস শরীফ

৪০টি মহামূল্যবান হাদিস শরীফ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নূরানী বাণীসমূহ ১. "নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজ তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" (বুখারী) ২. "তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।" (বুখারী) ৩. "পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।" (মুসলিম) ৪. "বল, আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, অতঃপর তার ওপর অটল থাক।" (মুসলিম) ৫. "মুসলিম সে-ই, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।" (বুখারী) ৬. "লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।" (বুখারী) ৭. "যে ব্যক্তি বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমার উম্মত নয়।" (তিরমিযী) ৮. "ধোঁকাবাজ আমাদের দলভুক্ত নয়।" (মুসলিম) ৯. "নামাজ জান্নাতের চাবিকাঠি।" (তিরমিযী) ১০. "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সময়মতো নামাজ পড়া।" (বুখারী) ১১. "পরনিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (বুখারী) ১২. "দোয়া ইবাদত...

২৯. ঋণ মুক্তির দোয়া

২৯. ঋণ মুক্তির দোয়া দোয়া: আল্লাহুম্মাক ফিনী বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালালের মাধ্যমে হারাল থেকে আমাকে বাঁচান এবং আপনার অনুগ্রহ দিয়ে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিন। ৩০. অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দোয়া দোয়া: আজহিবিল বাসা রাব্বান নাসি, ইশফি ওয়া আনতাস শাফী, লা শিফায়া ইল্লা শিফাউকা। অর্থ: হে মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদানকারী। আপনার দান করা আরোগ্য ছাড়া আর কোনো আরোগ্য নেই। ৩১. বাজারে প্রবেশের দোয়া দোয়া: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়া হুয়া হাইয়ুন লা ইয়ামুতু, বিয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। ৩২. চেহারা বা আয়না দেখার দোয়া দোয়া: আল্লাহুম্মা আনতা হাসসানতা খালক্বী, ফাহাসসিন খুলুক্বী। (হে আল্লাহ! আপনি আমার গঠন সুন্দর করেছেন, আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন।) ৩৩. নতুন পোশাক পরিধানের দোয়া দোয়া: আলহা...

১১. টয়লেটে প্রবেশের দোয়া

  ১১. টয়লেটে প্রবেশের দোয়া দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবায়িস। ১২. টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া দোয়া: গুফরা নাকা, আলহামদুলিল্লাহিল্লাজী আজহাবা আন্নিল আজা ওয়া আফানী। ১৩. ওযুর শুরুতে ও শেষে দোয়া শুরুতে: বিসমিল্লাহ। শেষে: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। ১৪. আজানের পরের দোয়া দোয়া: আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াবআসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযি ওয়ায়াত্তাহ। ১৫. আয়না দেখার দোয়া দোয়া: আল্লাহুম্মা আনতা হাসসানতা খালক্বী, ফাহাসসিন খুলুক্বী। (হে আল্লাহ! আপনি আমার গঠন সুন্দর করেছেন, আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন।) ১৬. যানবাহনে আরোহণের দোয়া দোয়া: সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহূ মুকরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুন কালিবুন। ১৭. রাগ কমানোর দোয়া: আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম। ...

দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় দোয়া

দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় দোয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো গুরুত্বপূর্ণ আমল ১. ঘুম থেকে ওঠার পর দোয়া আলহামদুলিল্লাহিল্লাজী আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর। অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর (ঘুমের) পর জীবিত করলেন এবং তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। ২. খাবার শুরুর দোয়া বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের ওপর ভরসা করে খাওয়া শুরু করছি। ৩. খাবার শেষের দোয়া আলহামদুলিল্লাহিল্লাজী আত'আমানা ওয়া সাকানা ওয়া জা'আলানা মিনাল মুসলিমিন। অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার করালেন, পান করালেন এবং আমাদের মুসলিম বানালেন। ৪. আয়না দেখার দোয়া আল্লাহুম্মা আনতা হাসসানতা খালক্বী, ফাহাসসিন খুলুক্বী। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার গঠন সুন্দর করেছেন, আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন। ৫. ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহর নামে ...

৩১. নবীজির নূরানী চেহারা ও শারীরিক গঠন

৩১. নবীজির নূরানী চেহারা ও শারীরিক গঠন সাহাবীদের বর্ণনা অনুযায়ী, নবীজি (সা.)-এর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও উজ্জ্বল ছিল। তাঁর গায়ের রঙ ছিল ধবধবে সাদার মধ্যে হালকা রক্তিম আভা যুক্ত। ৩২. নবীজির সাধারণ পোশাক ও অলঙ্কার তিনি সাদা রঙের পোশাক বেশি পছন্দ করতেন। তাঁর একটি রুপার আংটি ছিল, যাতে 'মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' খোদাই করা ছিল। ৩৩. সুগন্ধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নবীজি (সা.) সুগন্ধি খুব পছন্দ করতেন। তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে সুঘ্রাণে মানুষ বুঝতে পারত যে নবীজি (সা.) এই পথ দিয়ে গিয়েছেন। ৩৪. সাহাবীদের সাথে অকৃত্রিম বন্ধুত্ব নবীজি (সা.) সাহাবীদের সাথে এমনভাবে মিশতেন যে, যার সাথে কথা বলতেন সে-ই মনে করত নবীজি তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। ৩৫. উম্মতের জন্য ব্যাকুলতা ও ক্রন্দন দুনিয়াতে নবীজি সব সময় তাঁর উম্মতের জন্য কাঁদতেন। এমনকি জান্নাতে প্রবেশের সময়ও তিনি উম্মতদের কথা বলবেন। ৩৬. নিজের শত্রুকে বুকে টেনে নেওয়া হিন্দা এবং ওয়াহশী যারা নবীজির চাচা হামজাকে (রা.) শহীদ করেছিল, নবীজি তাদেরও ক্ষম...

২১. অমুসলিমদের সাথে আচরণ

২১. অমুসলিমদের সাথে আচরণ নবীজি (সা.) ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, "যে কোনো অমুসলিম নাগরিককে কষ্ট দিল, সে যেন আমাকেই কষ্ট দিল।" ২২. শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ তিনি শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বলেছেন, "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করে দাও।" ২৩. নারী জাতির সম্মান প্রতিষ্ঠা ইসলামের আগে নারীদের অবজ্ঞা করা হতো। নবীজি (সা.) ঘোষণা করেছেন, "মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত" এবং কন্যা সন্তানদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। ২৪. এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ তিনি দুই আঙুল পাশাপাশি রেখে বলেছিলেন, "আমি এবং এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবেই কাছাকাছি থাকব।" ২৫. প্রতিবেশীর হক আদায় জিবরাঈল (আ.) প্রতিবেশীর ব্যাপারে এত বেশি তাকিদ দিচ্ছিলেন যে, নবীজি (সা.) মনে করেছিলেন প্রতিবেশীকে বুঝি সম্পদের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেওয়া হবে! ২৬. পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণ তিনি বলেছেন, "যদি কেয়ামত শুরু হয়ে যায় এবং তোমাদের কারও হাতে একটি ...

১১. নবীজির নামাজ ও ইবাদত

১১. নবীজির নামাজ ও ইবাদত নবীজি (সা.) রাতে এত দীর্ঘ সময় নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতেন যে তাঁর পা ফুলে যেত। তিনি বলতেন, "আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?" ১২. শিশুদের প্রতি দয়া ও মমতা তিনি শিশুদের অনেক ভালোবাসতেন। রাস্তায় কোনো শিশুর সাথে দেখা হলে তিনি আগে সালাম দিতেন এবং তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। ১৩. তায়েফের ময়দানে ক্ষমা তায়েফবাসী যখন তাঁকে পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছিল, তখনও তিনি অভিশাপ দেননি। বরং বলেছিলেন, "হে আল্লাহ! ওদের জ্ঞান দাও, ওরা তো সত্য চেনে না।" ১৪. সাধারণ জীবনযাপন ও আহার নবীজি (সা.)-এর ঘরে টানা কয়েকদিন চুলা জ্বলত না। শুধু খেজুর আর পানি খেয়ে কাটিয়ে দিতেন। তিনি কখনো খাবারের কোনো দোষ ধরতেন না। ১৫. পশুপাখির অধিকার রক্ষা তিনি প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা নিষেধ করেছেন। একটি তৃষ্ণার্থ কুকুরকে পানি খাওয়ানোর সওয়াব এবং বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার শাস্তির কথা তিনি আমাদের জানিয়েছেন। ১৬. আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করা কাফেরদের দাবির মুখে আল্লাহ তাআলার হুকুমে নবীজি (সা.) আকাশের চাঁদকে...

সীরাতুন্নবী (সা.): মানবতার মুক্তির দিশারী

সীরাতুন্নবী (সা.): মানবতার মুক্তির দিশারী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়সমূহ ১. জন্ম ও বংশ পরিচয় নবীজি (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম আমিনা। ২. আল-আমিন উপাধি লাভ বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও আমানতদার। তাঁর চারিত্রিক গুণাবলীতে মুগ্ধ হয়ে মক্কাবাসী তাঁকে 'আল-আমিন' বা 'বিশ্বস্ত' উপাধি দিয়েছিল। ৩. হেরা গুহায় ওহী লাভ ৪০ বছর বয়সে জাবালে নূরের হেরা গুহায় ধ্যানেরত অবস্থায় তিনি প্রথম ওহী লাভ করেন। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রাসুল হিসেবে মনোনীত করেন। ৪. মক্কায় ইসলামের প্রচার ও বাধা নবীজি (সা.) দীর্ঘ ১৩ বছর মক্কায় একত্ববাদের দাওয়াত দেন। এসময় তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ কাফেরদের পক্ষ থেকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। ৫. মদীনার পথে হিজরত আল্লাহর নির্দেশে মক্কা ত্যাগ করে মদীনায় পাড়ি জমান নবীজি (সা.)। এটি ইসলামের ইতিহাসে 'হিজরত...

আরবি মাস প্রধান ইবাদত/দিন

আরবি মাস প্রধান ইবাদত/দিন ১. মহরম আশুরার রোজা (১০ তারিখ) ২. সফর কুসংস্কার বর্জন ও তওবা ৩. রবিউল আউয়াল সীরাতুন্নবী (সা.) ও দুরুদ পাঠ ৭. রজব মেরাজের শিক্ষা ও দোয়া ৮. শাবান শবে বরাত ও নফল রোজা ৯. রমজান পুরো মাস রোজা ও শবে কদর ১০. শাওয়াল ঈদুল ফিতর ও ৬ রোজা ১২. জিলহজ হজ, আরাফার রোজা ও কুরবানি

নতুন চাঁদ দেখার সুন্নাত ও দোয়া

১. নতুন চাঁদ দেখার সুন্নাত ও দোয়া প্রতিটি আরবি মাস শুরুর আগে নতুন চাঁদ দেখা সুন্নাত। চাঁদ দেখে এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ: "আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-আমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াস-সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।" অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি এই চাঁদকে আমাদের ওপর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে উদিত করুন। (হে চাঁদ!) আমার ও তোমার রব আল্লাহ। ২. প্রতি চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা প্রিয় নবী (সা.) প্রতি মাসের এই তিন দিন রোজা রাখতেন। একে 'আইয়ামে বিয' বলা হয়। ফযীলত: প্রতি মাসে এই ৩টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক উপকার: এই দিনগুলোতে পূর্ণিমা থাকে, এসময় রোজা রাখা মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তির জন্য সহায়ক। ৩. সম্মানিত ৪টি মাসে বিশেষ সতর্কতা কুরআন মজিদ অনুযায়ী ৪টি মাস (জিলকদ, জিলহজ, মহরম ও রজব) অত্যন্ত সম্মানিত। এই মাসগুলোতে ঝগড়া-বিবাদ ও গুনাহের কাজ থেকে সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি দূরে থাকতে হবে। এই সময়ে নেক আমলের সওয়াব য...

ইসলামি বর্ষপঞ্জি: ১২ মাসের আমল ও দোয়া

ইসলামি বর্ষপঞ্জি: ১২ মাসের আমল ও দোয়া মুমিনের সারা বছরের পাথেয় ১. মহরম (সম্মানিত মাস) ফজিলত: এটি আল্লাহর মাস। এই মাসে আশুরার দিন (১০ই মহরম) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমল: ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে রোজা রাখা। বেশি বেশি নফল ইবাদত করা। দোয়া: বিশেষ কোনো দোয়া নেই, তবে নতুন বছরের শুরুতে কল্যাণ কামনায় দোয়া করা সুন্নাত। ২. সফর (সতর্কতার মাস) ফজিলত: এই মাস নিয়ে কোনো অশুভ বা কুলক্ষণ নেই। বিশ্বাস রাখা যে সব কল্যাণ আল্লাহর হাতে। আমল: কুসংস্কার বর্জন করে নিয়মিত ইবাদত চালিয়ে যাওয়া। ৩. রবিউল আউয়াল (নবীজির মাস) ফজিলত: এই মাসে প্রিয় নবী (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যু হয়েছে। আমল: সীরাতুন্নবী (সা.) পাঠ করা এবং বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পড়া। দোয়া (দুরুদ): "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ..." ৪, ৫ ও ৬. মধ্যবর্তী মাসসমূহ আমল: প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ 'আইয়ামে বিয'-এর ৩টি নফল রোজা রাখা। ৭. রজব (বীজ বপনের মাস) ফজিলত: এটি সম্মানিত ৪ মাসের একটি। এখা...

কালেমা ও ঈমান ভিডিও

ছবি
কালেমা ও ঈমান অডিও

ভিডিও মোনাজাত ও দোয়া

ছবি
ভিডিও মোনাজাত ও দোয়া

হাদিস বাণী: ৮ম পর্ব (শেষ পর্ব)

হাদিস বাণী: ৮ম পর্ব (শেষ পর্ব) আল্লাহর ভয় এবং মুমিনের চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে শেষ পাঁচটি হাদিস: ৩৬. আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তি হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার রবের জিকির (স্মরণ) করে আর যে করে না—তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।" (সহীহ বুখারি: ৬৪০৭) ৩৭. মোনাজাত বা দোয়ার শক্তি হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কোনো কিছু নেই।" (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৭০) ৩৮. অভাব মুক্তির উপায় হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবে, আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণের পথ করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করেনি।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৮) ৩৯. প্রকৃত বীরের পরিচয় হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "প্রকৃত বীর বা পালোয়ান সে নয় যে অন্যকে আছাড় দেয়, বরং প্রকৃত বীর সেই যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।" (সহীহ মুসলিম: ২৬০৯) ৪০. মুমিনের শেষ কথা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো...

হাদিস বাণী: ৭ম পর্ব

  হাদিস বাণী: ৭ম পর্ব আখিরাত এবং আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের ওপর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস: ৩১. দুনিয়া ও মুসাফিরের জীবন হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার (ইবনে উমর) কাঁধ ধরে বললেন: "দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস করো যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা একজন পথচারী।" (সহীহ বুখারি: ৬৪১৬) ৩২. মানুষের উপকার করা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে মানুষের জন্য বেশি উপকারী।" (সহীহ আল-জামি: ৬৬৬৩) ৩৩. জান্নাতের নিশ্চয়তা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার জন্য তার জিহ্বা এবং তার লজ্জাস্থানের হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।" (সহীহ বুখারি: ৬৪৭৪) ৩৪. নিয়মিত অল্প আমল হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো তা-ই, যা নিয়মিত করা হয়—যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।" (সহীহ বুখারি: ৬৪৬৫) ৩৫. অহংকার বর্জন হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ মুসলিম: ৯১)

হাদিস বাণী: ৬ষ্ঠ পর্ব

  হাদিস বাণী: ৬ষ্ঠ পর্ব মানুষের সম্মান রক্ষা এবং সরল জীবনযাপন নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস: ২৬. অন্যের দোষ গোপন করা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৯০) ২৭. সর্বোত্তম আমল হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, 'কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম?' তিনি বললেন: "সময়মতো নামাজ আদায় করা এবং পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করা।" (সহীহ বুখারি: ৫২৭) ২৮. মুসলিমের প্রতি ভালোবাসা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।" (সহীহ বুখারি: ১৩) ২৯. লোক দেখানো ইবাদত হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের শরীর বা চেহারার দিকে তাকান না, বরং তিনি তাকান তোমাদের অন্তরের (নিয়ত) এবং আমলের দিকে।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৬৪) ৩০. নম্রতার পুরস্কার হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নম্রতা অবলম্বন করে, আ...

হাদিস বাণী: ৫মে পর্ব

  হাদিস বাণী: ৫মে পর্ব পরকালীন মুক্তি এবং সৎ জীবন যাপনের ওপর পাঁচটি বিশেষ হাদিস: ২১. সর্বোত্তম দান বা সদকা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "উত্তম সদকা হলো তা, যা অভাবমুক্ত অবস্থায় (সামর্থ্য অনুযায়ী) দেওয়া হয়।" (সহীহ বুখারি: ১৪২৯) ২২. পরনিন্দা বা গিবতের পরিণতি হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "চোগলখোর (যে একজনের কথা অন্যকে বলে বিবাদ বাধায়) জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ বুখারি: ৬০৫৬) ২৩. আল্লাহর কাছে প্রিয় জায়গা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ এবং সবচেয়ে অপ্রিয় জায়গা হলো বাজার।" (সহীহ মুসলিম: ৬৭১) ২৪. মুমিনের সম্পদ ও কৃপণতা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "দান করলে সম্পদ কমে না, আর ক্ষমা করলে আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮) ২৫. দোয়া ইবাদতের মূল হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "দোয়া হলো ইবাদতের মূল (মগজ)।" (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৭২)

হাদিস বাণী: ৪র্থ পর্ব

  হাদিস বাণী: ৪র্থ পর্ব নিজের নফসের নিয়ন্ত্রণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন নিয়ে পাঁচটি হাদিস: ১৬. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সেই ব্যক্তি শক্তিশালী নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দেয়, বরং সেই প্রকৃত শক্তিশালী যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।" (সহীহ বুখারি: ৬১১৪) ১৭. তওবা ও ক্ষমা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "গুনাহ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গুনাহ নেই।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫০) ১৮. আমানত রক্ষা করা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই। আর যে অঙ্গীকার রক্ষা করে না, তার মধ্যে দ্বীন নেই।" (মুসনাদে আহমাদ: ১২৩৮৭) ১৯. অল্পে তুষ্টি বা ধৈর্য হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ধৈর্য হলো একটি জ্যোতি (যা মানুষকে অন্ধকার থেকে রক্ষা করে)।" (সহীহ মুসলিম: ২২৩) ২০. ভালো কাজের পথপ্রদর্শক হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথ দেখায়, সে ঐ কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব লাভ করে।" (সহীহ মুসলিম: ৪৬৬৫)

হাদিস বাণী: ৩য় পর্ব

  হাদিস বাণী: ৩য় পর্ব পরোপকার, আত্মীয়তার বন্ধন এবং অন্যের অধিকার নিয়ে পাঁচটি বিশেষ হাদিস: ১১. আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (সহীহ বুখারি: ৫৯৮৪) ১২. শ্রমিকের পারিশ্রমিক হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৪৪৩) ১৩. ছোট-বড়র প্রতি দায়িত্ব হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (সুনানে তিরমিজি: ১৯১৯) ১৪. পবিত্র কুরআন শিক্ষা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে নিজে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।" (সহীহ বুখারি: ৫০২৭) ১৫. প্রতিবেশীর অধিকার হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট ভরে খায় অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।" (শুআবুল ঈমান: ৩৩৩৮)

হাদিস বাণী: ২য় পর্ব

  হাদিস বাণী: ২য় পর্ব মানুষের প্রতি দয়া, সততা এবং ইবাদতের গুরুত্ব নিয়ে আজকের পাঁচটি হাদিস: ৬. মানুষের প্রতি দয়া করা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।" (সহীহ মুসলিম: ২৩১৯) ৭. সত্য বলার গুরুত্ব হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা সর্বদা সত্য কথা বলবে, কারণ সত্য মানুষকে পুণ্যের পথে পরিচালিত করে আর পুণ্য জান্নাতের পথে নিয়ে যায়।" (সহীহ বুখারি: ৬০৯৪) ৮. পিতামাতার মর্যাদা হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত।" (সুনানে তিরমিজি: ১৮৯৯) ৯. উত্তম আমল হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।" (সহীহ মুসলিম: ২২৩) ১০. মেহমানদারি ও ঈমান হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।" (সহীহ বুখারি: ৬০১৮)

৪০ হাদিস: শেষ পর্ব (হাদিস ৩৬ - ৪০)

  ৪০ হাদিস: শেষ পর্ব (হাদিস ৩৬ - ৪০) ৩৬. কুরআন ও জিকিরের ফজিলত হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবী বিপদসমূহের মধ্য থেকে একটি বিপদ দূর করে দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি বড় বিপদ দূর করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯) ৩৭. আল্লাহর দয়া ও নেকি হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন: "বান্দা যখন কোনো ভালো কাজের নিয়ত করে কিন্তু তা করতে পারে না, তবুও তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে তার জন্য ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত নেকি লেখা হয়।" (সহীহ বুখারি: ৬৪৯১) ৩৮. আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার এতই নিকটবর্তী হতে থাকে যে, শেষ পর্যন্ত আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি। আর আমি যখন তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে..." (সহীহ বুখারি: ৬৫০২) ৩৯. ভুল ও অনিচ্ছাকৃত অপরাধ হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা কাজ, ভুলে যাওয়...

৪০ হাদিস: ৭ম পর্ব (হাদিস ৩১ - ৩৫)

  ৪০ হাদিস: ৭ম পর্ব (হাদিস ৩১ - ৩৫) ৩১. দুনিয়া বিমুখতা ও আল্লাহর ভালোবাসা হাদিস: এক ব্যক্তি নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, 'এমন একটি আমল বলে দিন যা করলে আল্লাহ ও মানুষ সবাই আমাকে ভালোবাসবে।' তিনি বললেন: "দুনিয়ার প্রতি মোহ ত্যাগ করো, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন। আর মানুষের কাছে যা আছে (সম্পদ) তার প্রতি লোভ ত্যাগ করো, মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে।" (ইবনে মাজাহ: ৪১০২) ৩২. ক্ষতি করা নিষেধ হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কারো ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কারো ক্ষতি করাও যাবে না (অর্থাৎ ক্ষতি বা প্রতিশোধের মাধ্যমে ক্ষতি ছড়ানো যাবে না)।" (ইবনে মাজাহ: ২৩৪০) ৩৩. প্রমাণের দায়িত্ব কার? হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যদি মানুষের দাবির ওপর ভিত্তি করেই সবকিছু দিয়ে দেওয়া হতো, তবে মানুষ অন্যের রক্ত ও সম্পদ দাবি করে বসত। তাই নিয়ম হলো— দাবিদারের ওপর প্রমাণের দায়িত্ব আর অস্বীকারকারীর ওপর শপথ করা।" (বায়হাকি, হাদিসটি হাসান) ৩৪. অন্যায় প্রতিরোধ করা হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে, তবে সে যেন তা হাত দিয়ে (শক্তি দিয়...

৪০ হাদিস: ৬ষ্ঠ পর্ব (হাদিস ২৬ - ৩০)

 ৪০ হাদিস: ৬ষ্ঠ পর্ব (হাদিস ২৬ - ৩০) ২৬. মুসলিমের হক বা অধিকার হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের হক পাঁচটি: সালামের জবাব দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, জানাজায় শরিক হওয়া, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচির উত্তর দেওয়া।" (সহীহ বুখারি: ১২৪০) ২৭. সর্বোত্তম দান হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "উত্তম সদকা (দান) হলো তা, যা অভাবমুক্ত অবস্থায় (নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী) দেওয়া হয়। আর ওপরের হাত (দাতা) নিচের হাতের (গ্রহীতা) চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" (সহীহ বুখারি: ১৪২৯) ২৮. ভ্রাতৃত্ব ও হিংসা বর্জন হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরের সাথে শত্রুতা করো না এবং একে অপরের পেছনে কথা বলো না। বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে সবাই ভাই ভাই হয়ে থাকো।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৬৩) ২৯. জান্নাতের সহজ পথ হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানের (লজ্জা স্থান) নিশ্চয়তা দেবে (হেফাজত করবে), আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।" (সহীহ বুখারি: ৬৪৭৪) ৩০. অল্প...

৪০ হাদিস: ৫ম পর্ব (হাদিস ২১ - ২৫)

  ৪০ হাদিস: ৫ম পর্ব (হাদিস ২১ - ২৫) ইসলামের সৌন্দর্য ও চারিত্রিক গুণাবলীর ওপর ভিত্তি করে এই পর্বের হাদিসগুলো সাজানো হয়েছে: ২১. লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "লজ্জাশীলতা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না।" (অন্য বর্ণনায়— "লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ")। (সহীহ বুখারি: ৬১১৭, সহীহ মুসলিম: ৩৭) ২২. পরোপকারের নেকি হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মানুষের ওপর প্রতিদিন তার প্রতিটি জোড়ার (গ্রন্থির) সদকা করা আবশ্যক। দুই ব্যক্তির মধ্যে ইনসাফ বা মীমাংসা করে দেওয়া একটি সদকা, কাউকে তার বাহনে চড়তে সাহায্য করা একটি সদকা..." (সহীহ বুখারি: ২৯৮৯, সহীহ মুসলিম: ১০০৯) ২৩. সৎ কাজের পথপ্রদর্শক হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথ দেখাবে, সে ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পাবে।" (সহীহ মুসলিম: ১৮৯৩) ২৪. মুমিনের বিস্ময়কর জীবন হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মুমিনের ব্যাপারটি কতই না চমৎকার! তার প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণকর। যদি সে সুখে থাকে তবে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে এটি তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে বিপদ...

৪০ হাদিস: ৪র্থ পর্ব (হাদিস ১৬ - ২০)

  ৪০ হাদিস: ৪র্থ পর্ব (হাদিস ১৬ - ২০) ১৬. পরোপকার ও দয়া হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।" (সহীহ মুসলিম: ২৩১৯) ১৭. অন্যের দোষ গোপন করা হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে বান্দা দুনিয়াতে অন্য কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৯০) ১৮. আমানতদারি ও মোনাফেকি হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে কোনো আমানত রাখা হয় তা খেয়ানত করে।" (সহীহ বুখারি: ৩৩) ১৯. আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত।" (সুনানে তিরমিজি: ১৮৯৯) ২০. জ্ঞান অর্জনের মর্যাদা হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯)

৪০ হাদিস: ৩য় পর্ব (হাদিস ১১ - ১৫)

  ৪০ হাদিস: ৩য় পর্ব (হাদিস ১১ - ১৫) পবিত্রতা, দয়া এবং চারিত্রিক সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে এই পর্বের হাদিসগুলো সাজানো হয়েছে: ১১. পবিত্রতা ও সালাত হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মিযানের পাল্লাকে পূর্ণ করে দেয় এবং ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ’ আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী খালি জায়গা পূর্ণ করে দেয়।" (সহীহ মুসলিম: ২২৩) ১২. জুলুম বা অন্যায় করা হাদিস: আবু যার আল-গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে কুদসিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের ওপর জুলুম (অন্যায়) হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করে দিয়েছি। অতএব, তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৭৭) ১৩. উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছে বসবে, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।" (সুনানে তিরমিজি: ২০০১) ১৪. সন্দেহজনক বিষয় বর্জন হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি হাসান ইবনে আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ...

৪০ হাদিস: ২য় পর্ব (হাদিস ৬ - ১০)

  ৪০ হাদিস: ২য় পর্ব (হাদিস ৬ - ১০) ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সাজানো পরবর্তী পাঁচটি হাদিস: ৬. হালাল ও হারামের পার্থক্য হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দুটির মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়াবলী, যা অনেক মানুষই জানে না। যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে রক্ষা করল।" (সহীহ বুখারি: ৫২) ৭. নসিহত বা কল্যাণকামিতা হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "দ্বীন হলো নসিহত (একনিষ্ঠ কল্যাণকামিতা)।" আমরা (সাহাবীরা) জিজ্ঞেস করলাম, 'কার জন্য?' তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য এবং মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সকল সাধারণ মুসলিমের জন্য।" (সহীহ মুসলিম: ৫৫) ৮. সঠিক পথে অটল থাকা হাদিস: সুফিয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলে দিন যা আপনি ছাড়া আর কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন হবে না।' তিনি বললেন: "তুমি বলো— 'আমি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি', তারপর এর ওপর অটল থাকো।" (স...

৪০ হাদিস: ১ম পর্ব (হাদিস ১ - ৫)

 ৪০ হাদিস: ১ম পর্ব (হাদিস ১ - ৫) নিচে দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পাঁচটি হাদিস দেওয়া হলো: ১ . নিয়তের গুরুত্ব হাদিস: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে, তা-ই সে পাবে।" (সহীহ বুখারি: ১) ২. ঈমানের শাখা হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো— 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) বলা এবং সর্বনিম্ন হলো— রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ শাখা।" (সহীহ মুসলিম: ৩৫) ৩. ইসলামের স্তম্ভসমূহ হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: (১) এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, (২) সালাত কায়েম করা, (৩) জাকাত দেওয়া, (৪) রমজান মাসের রোজা রাখা এবং (৫) বায়তুল্লাহর হজ্জ করা।" (সহীহ বুখারি: ৮) ৪ . অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "একজন ব্যক্তির ইসল...

হাদিস ০১: সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল

  হাদিস নম্বর: ০১ বিষয়: নিয়ত হাদিসের মূল অংশ: " নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী) প্রেক্ষাপট : রাসূলুল্লাহ (সা.) এই হাদিসটি তখন বলেছিলেন যখন একজন ব্যক্তি দ্বীনের স্বার্থে নয়, বরং একজনকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করেছিলেন। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, কাজের পেছনে উদ্দেশ্য বা নিয়ত বিশুদ্ধ হতে হবে। তরজমা ও শিক্ষা: প্রত্যেক ব্যক্তি তার কাজের ফলাফল তার নিয়ত অনুযায়ী পাবে। যদি কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য কোনো কাজ করে, তবে সে সেই পুরস্কারই পাবে। আর যদি পার্থিব কোনো লাভের জন্য করে, তবে সে কেবল সেটুকুই পাবে।

৭.ঈমানে মুফাসসাল (বিস্তারিত বিশ্বাস)

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম আলহামদুলিল্লাহ, কুরআন পড়ার নিয়মাবলী শেখার পর প্রতিটি মুমিনের জন্য ইসলামের এই কালিমা জানা ও বিশ্বাস করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে (কালিমা মুফাসসাল) বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো:   ৭.ঈমানে মুফাসসাল (বিস্তারিত বিশ্বাস) আরবি: اٰمَنْتُ بِاللّٰهِ وَمَلٰئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْقَدْرِ خَيْرِهٖ وَشَرِّهٖ مِنَ اللّٰهِ تَعَالٰى وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ- বাংলা উচ্চারণ: আমন্তু বিল্লাহি ওয়া মালায়িকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসুলিহী ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি ওয়াল কাদরি খাইরিহী ওয়া শাররিহী মিনাল্লাহি তায়ালা ওয়াল বা'ছি বাদাল মাউত। বাংলা অর্থ: আমি বিশ্বাস স্থাপন করলাম আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয় এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।

৬.ঈমানে মুজমাল (সংক্ষিপ্ত বিশ্বাস)

  বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম আলহামদুলিল্লাহ, কুরআন পড়ার নিয়মাবলী শেখার পর প্রতিটি মুমিনের জন্য ইসলামের এই কালিমা জানা ও বিশ্বাস করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে (কালিমা মুজমাল) বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো: ৬.ঈমানে মুজমাল (সংক্ষিপ্ত বিশ্বাস) আরবি: اٰمَنْتُ بِاللّٰهِ كَمَا هُوَ بِاَسْمَائِهٖ وَصِفَاتِهٖ وَقَبِلْتُ جَمِيْعَ اَحْكَامِهٖ- বাংলা উচ্চারণ: আমন্তু বিল্লাহি কামা হুয়া বি আসমায়িহী ওয়া সিফাতিহী ওয়া কবিলতু জামীআ আহকামিহী। বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহ তাআলার ওপর ঈমান আনলাম, ঠিক তেমনিভাবে যেমন তিনি তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি নিয়ে বিদ্যমান আছেন এবং আমি তাঁর সকল হুকুম-আহকাম মেনে নিলাম।

৫.কালিমা রদ্দে কুফর (কুফরি প্রত্যাখ্যানের কালিমা)

  বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম আলহামদুলিল্লাহ, কুরআন পড়ার নিয়মাবলী শেখার পর প্রতিটি মুমিনের জন্য ইসলামের এই কালিমা জানা ও বিশ্বাস করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে (কালিমা রদ্দে কুফর) বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো: ৫.কালিমা রদ্দে কুফর (কুফরি প্রত্যাখ্যানের কালিমা) আরবি: اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ اَنْ اُشْرِكَ بِكَ شَيْئًا وَّاَنَا اَعْلَمُ بِهٖ وَاَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ اَعْلَمُ بِهٖ تُبْتُ عَنْهُ وَتَبَرَّأْتُ مِنَ الْكُفْرِ وَالشِّرْكِ وَالْكِذْبِ وَالْغِيْبَةِ وَالْبِدْعَةِ وَالنَّمِيْمَةِ وَالْفَوَاحِشِ وَالْبُهْتَانِ وَالْمَعَاصِىْ كُلِّهَا وَاَسْلَمْتُ وَاَقُوْلُ لَا اِلهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ- বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন আন উশরিকা বিকা শাইআওঁ ওয়া আনা আ’লামু বিহী, ওয়া আস্তাগফিরুকা লিমা লা আ’লামু বিহী, তুবতু আনহু ওয়া তাবাররা’তু মিনাল কুফরি ওয়াশ শিরকি ওয়াল কিযবি ওয়াল গীবাতী ওয়াল বিদ’আতী ওয়ান নামীমাতি ওয়াল ফাওয়াহিশি ওয়াল বুহতানি ওয়াল মা’আছী কুল্লিহা, ওয়া আসলামতু ওয়া আকূলু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। বাংলা অর্থ: হে আল্লা...

৪. কালিমা তামজীদ (শ্রেষ্ঠত্ব)

  বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম আলহামদুলিল্লাহ, কুরআন পড়ার নিয়মাবলী শেখার পর প্রতিটি মুমিনের জন্য ইসলামের এই কালিমা জানা ও বিশ্বাস করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে কালিমা তামজীদ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো: ৪. কালিমা তামজীদ (শ্রেষ্ঠত্ব) আরবি: لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ نُوْرَ يَّهْدِي اللهُ لِنُوْرِهِ مَنْ يَّشَاءُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ اِمَامُ الْمُرْسَلِيْنَ خَاتَمُ النَّبِيِّيْنَ উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা নুরাই ইয়াহদিয়াল্লাহু লিনুরিহি মাইঁ ইয়াশাউ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহি ইমামুল মুরসালীনা খাতামুন নাবিয়্যীন। অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি জ্যোতির্ময়, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর জ্যোতির দিকে পথ প্রদর্শন করেন। মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল, সকল রাসূলের ইমাম এবং শেষ নবী।